ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যও উদ্ধার, তীব্র যুদ্ধের মাঝেই নতুন উত্তেজনা
ইরানের ভেতরে ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকেও উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান যুদ্ধের মধ্যে বড় এক সামরিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া সদস্য আহত হলেও তিনি বেঁচে গেছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবরে বলা হয়েছে, ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটির দুই সদস্যের একজনকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় সদস্যকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ভেতরে জটিল ও বিপজ্জনক অনুসন্ধান অভিযান চালাতে হয়। এ অভিযানে একাধিক সামরিক উড়োজাহাজ অংশ নেয় এবং শত্রুপক্ষের প্রতিরোধও মোকাবিলা করতে হয়। যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের প্রশংসা করে একে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার মিশন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনা চলমান যুদ্ধকে আরও সংবেদনশীল পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই যুদ্ধ ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব এখন শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব তেল সরবরাহ ও দামের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত সাফল্য হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এটি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। কারণ, ইরানের ভেতরে সরাসরি এমন অভিযান ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান উদ্বেগ।