LTK News | দেশ-বিদেশের খবর ও গভীর বিশ্লেষণ
শূন্য হাতের মানুষ, কোটি হৃদয়ের নাম—আব্দু মিয়া ও ‘মিল্লাত’-এর অমর গল্প

শূন্য হাতের মানুষ, কোটি হৃদয়ের নাম—আব্দু মিয়া ও ‘মিল্লাত’-এর অমর গল্প

বাংলার মাটিতে কিছু মানুষের জীবন কেবল একটি জীবনী নয়, একটি যুগের প্রতীক। মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ, সবার প্রিয় আব্দু মিয়া, ছিলেন তেমনই এক মানুষ। প্রচলিত জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক নিভৃত গ্রামে তাঁর জন্ম। আর ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, দীর্ঘ জীবনসংগ্রাম, কর্ম, সাফল্য ও মানুষের ভালোবাসা বুকে নিয়ে তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান। জন্ম আর মৃত্যুর এই দুই তারিখের মাঝখানে যে দীর্ঘ পথ, তা ছিল কেবল একজন মানুষের জীবনপথ নয়; তা ছিল দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে এক নীরব বিদ্রোহ, অভাবের বিরুদ্ধে এক অদম্য উচ্চারণ, আর স্বপ্নকে বাস্তব করে তোলার এক অবিশ্বাস্য উপাখ্যান। আব্দু মিয়ার শৈশব ছিল না স্বচ্ছলতার আলোয় ভরা। বরং জীবনের শুরুতেই তিনি দেখেছেন অভাবের কঠিন মুখ, অনিশ্চয়তার ধূসর দিন, আর বেঁচে থাকার নির্মম হিসাব। যে বয়সে শিশুরা নিশ্চিন্তে স্বপ্ন দেখে, সেই বয়সেই তাঁকে বুঝে নিতে হয়েছিল—জীবন সব মানুষের জন্য সমান কোমল নয়। কিন্তু এখানেই তাঁর অসাধারণত্ব। কারণ অভাব তাঁকে ভেঙে দেয়নি; তা তাঁকে শিখিয়েছে দাঁড়াতে, লড়তে, আর নিজের ভাগ্য নিজ হাতে লিখতে। তাঁর জীবনের প্রচলিত কাহিনিগুলোতে বারবার ফিরে আসে এই সত্য—তিনি নিচু মাটি থেকে উঠে এসেছিলেন, কিন্তু চোখ রেখেছিলেন অনেক উঁচুতে। সফল মানুষের গল্প আমরা অনেক শুনি, কিন্তু সব সাফল্যের পেছনে এমন গভীর ক্ষুধা, এমন কষ্ট, এমন লড়াই থাকে না। আব্দু মিয়ার জীবনের সবচেয়ে আবেগময় দিক হলো—তিনি কোনো প্রস্তুত পথ পাননি; তাঁকে পথ বানাতে হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠিত ছায়া পাননি; তাঁকে নিজের হাতে ছায়া গড়তে হয়েছে। কোনো বড় উত্তরাধিকার পাননি; বরং তিনিই নিজে হয়ে উঠেছিলেন উত্তরাধিকার। দারিদ্র্যকে পরাজিত করে তিনি যে স্বপ্ন গড়ে তুলেছিলেন, সেই স্বপ্নই একসময় মানুষের মুখে মুখে হয়ে ওঠে “মিল্লাত”—একটি নাম, একটি আস্থা, একটি পরিচিত ব্র্যান্ড। তাঁর প্রয়াণের সংবাদেও তাঁকে বারবার মিল্লাত গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেই স্মরণ করা হয়েছে। মিল্লাত ব্রান্ড একটি ব্র্যান্ডের জন্ম শুধু ব্যবসার ঘটনা নয়; সেটি অনেক সময় একজন মানুষের নীরব কান্না, না-বলা ব্যথা, নির্ঘুম রাত, ক্লান্ত হাত আর বুকভরা জেদের দৃশ্যমান রূপ। “মিল্লাত” তাই কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নাম নয়—এটি এক সংগ্রামী জীবনের জমাট ইতিহাস। বাংলাদেশের অগণিত মানুষ হয়তো এই নাম চেনেন পণ্য, প্রতিষ্ঠান বা আস্থার প্রতীক হিসেবে; কিন্তু সেই নামের পেছনে যে ছিল অন্ধকার থেকে আলোয় ওঠার গল্প, তা জানলে “মিল্লাত” শব্দটি আরও বড়, আরও গভীর হয়ে ওঠে। মনে হয়, প্রতিটি অক্ষরের ভেতরে যেন জমে আছে এক দরিদ্র কিন্তু অদম্য মানুষের শ্বাস, ঘাম, শ্রম আর স্বপ্ন। আব্দু মিয়া শুধু শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন না; তিনি জনমানুষেরও একজন ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংবাদসূত্রে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শিক্ষা, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কিন্তু তাঁর জীবনকে যদি কেবল পদ বা পরিচয়ে মাপতে যাই, তাহলে তাঁর আসল মহত্ত্ব ধরা পড়বে না। কারণ তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল—তিনি মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ ছিলেন; যিনি সাফল্যের চূড়ায় উঠেও নিজের শেকড়ের গন্ধ ভুলে যাননি। এ কারণেই তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, একটি অঞ্চলের শোক; শুধু একজন নেতার মৃত্যু নয়, একটি সময়ের অবসান। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুর পর জানাজা ও শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল নেমেছিল—এটিই বলে দেয় তিনি কেবল প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন না, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া একজন প্রিয় মুখও ছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, ছয় মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মানুষ যখন কাউকে শুধু সম্মান নয়, ভালোবেসেও স্মরণ করে, তখন বোঝা যায় তাঁর জীবন আসলে কাগজের জীবনীতে শেষ হয় না। আজ আব্দু মিয়ার গল্প আমাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—দারিদ্র্য কোনো মানুষের শেষ পরিচয় নয়। অভাব মানুষকে থামাতে পারে না, যদি তার ভেতরে থাকে আগুন; প্রতিকূলতা মানুষকে হারাতে পারে না, যদি তার ভেতরে থাকে বিশ্বাস। তিনি যেন নিজের জীবন দিয়ে বলে গেছেন, শূন্য হাত দিয়েও ইতিহাস লেখা যায়; অন্ধকার পথ থেকেও আলোয় পৌঁছানো যায়; আর মাটির ঘর থেকেও এমন একটি নাম গড়ে তোলা যায়, যা একদিন সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। সেই নাম—মিল্লাত। আর সেই নামের পেছনে থাকা মানুষটি—আব্দু মিয়া—আজ না থাকলেও তাঁর সংগ্রামের আলো নিভে যায়নি। তা রয়ে গেছে মানুষের স্মৃতিতে, প্রজন্মের অনুপ্রেরণায়, আর বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-সাহসের এক উজ্জ্বল প্রতীকে। 
৮ ঘন্টা আগে

ইতিহাস যখন রসিকতার উপকরণ হয়

ইতিহাস যখন রসিকতার উপকরণ হয়

মিজানুর রহমান আজহারির অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশ: মূল কারণ

মিজানুর রহমান আজহারির অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশ: মূল কারণ

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন ভাবনা

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন ভাবনা

ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক: বাজার স্থিতিশীলতা, নাকি দামের ওপর নতুন চাপ

ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক: বাজার স্থিতিশীলতা, নাকি দামের ওপর নতুন চাপ

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইসি, বাস্তবতা কী বলছে?

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইসি, বাস্তবতা কী বলছে?

ইরানে যুদ্ধের ছায়া: সীমিত অভিযানের আড়ালে বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইরানে যুদ্ধের ছায়া: সীমিত অভিযানের আড়ালে বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইরানের ৫,০০০ কিমি মিসাইল রেঞ্জ: বাস্তব সক্ষমতা, না কৌশলগত বার্তা?

ইরানের ৫,০০০ কিমি মিসাইল রেঞ্জ: বাস্তব সক্ষমতা, না কৌশলগত বার্তা?

মহাসাগরে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, ভানুয়াতুর উপকূলে শক্তিশালী কম্পন

মহাসাগরে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, ভানুয়াতুর উপকূলে শক্তিশালী কম্পন

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: ৪০ যাত্রীসহ বাস পদ্মায়

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: ৪০ যাত্রীসহ বাস পদ্মায়

চুলে তেল দেওয়ার সেরা সময় কোনটি, সকাল নাকি রাত?

চুলে তেল দেওয়ার সেরা সময় কোনটি, সকাল নাকি রাত?

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া কলকাতা এখন বিপদে

কলকাতা নাইট রাইডার্স–সমর্থকদের মুখে হাসিটা কি এখনো আছে? প্রশ্নটি করতেই হচ্ছে। কারণ, আইপিএল নিলামের পর কলকাতা যে দলটা গড়েছিল, সেই দলে এখন বেশ কয়েকটি ফাটল ধরেছে।পেস বোলিং ইউনিটের ওপর দিয়ে তো ঝড়ই বয়ে গেছে। তাই আইপিএল শুরুর দুই দিন আগে কলকাতার সমর্থকদের মুখে হাসির চেয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজই বেশি দেখার কথা।কলকাতার দুঃসময়ের শুরু হয় বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া ঘিরে। নিলামে মোস্তাফিজকে চড়া দামে কিনেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় তাঁকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি।২ কোটি রুপি ভিত্তি মূল্যের এই বাঁহাতি পেসারকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে টেনেছিল কলকাতা। নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস আর দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে লড়াই করে তাঁকে একরকম ছিনিয়ে নিয়েছিল বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের দল।এরপরও কেন মোস্তাফিজকে বাদ দেয় কলকাতা, সেই গল্পটা অজানা থাকার কথা নয়। ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।মোস্তাফিজ আইপিএলে এর আগে কখনো ৩ কোটি রুপিতেও বিক্রি হননি। এবার তাঁকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কোনো দল কিনেছে, এর মানে মোস্তাফিজকে ঘিরে দলটি বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। টুর্নামেন্টের আগেই সেই পরিকল্পনা থেকে কলকাতার সরে আসতে হয়েছে।হর্ষিত রানামোস্তাফিজ তো আগেই নেই, কলকাতা এবার পাচ্ছে না তাদের মূল ভারতীয় পেসার হর্ষিত রানাকেও। হাঁটুর চোটে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করা এ পেসার আইপিএল থেকেও ছিটকে গেছেন।হর্ষিত ছিটকে যাওয়ায় লোয়ার অর্ডারে একজন ‘পাওয়ার হিটার’ও হারিয়েছে কলকাতা। এখন লোয়ার অর্ডারে ঝড় তুলতে বিদেশি কাউকে খেলাতে হতে পারে দলটির। তাই হর্ষিতের ছিটকে যাওয়া প্রভাব ফেলবে কলকাতার দলীয় সমন্বয়ে। হর্ষিতের বদলি হিসেবে ভারতীয় পেসার নবদীপ সাইনিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে দলটি।কলকাতার স্কোয়াডে দ্বিতীয় সেরা ভারতীয় পেসার আকাশদীপ। তিনিও কোমরের চোটে ছিটকে গেছেন আইপিএল থেকে। তাঁর বিকল্প হিসেবে বাঁহাতি পেসার সৌরভ দুবেকে নিয়েছে কলকাতা। সৌরভ কখনো আইপিএলে খেলেননি।চোটের সমস্যা এখানেই শেষ নয়। মোস্তাফিজের পাশাপাশি দলটি নিলাম থেকে শ্রীলঙ্কার পেসার মাতিশা পাতিরানাকেও দলে নিয়েছিল। তাঁকে কিনতে কলকাতার খরচ হয় ১৮ কোটি রুপি।ডেথ ওভারে কলকাতাকে বাঁচানোর দায়িত্বটা এই পাতিরানার ওপরই ছিল। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে চোটে পড়া এই পেসারও আইপিএলে এবারের মৌসুম থেকে ছিটকে গেছেন। তবে কলকাতা আশা করছে মৌসুমের শেষ দিকে তাঁকে পাওয়া যাবে। সে কারণে এখনো বদলি হিসেবে কারও নাম ঘোষণা করেনি দলটি।চোটে ভুগছেন পাতিরানাসব মিলিয়ে কলকাতার পেস বোলিং ধুঁকছে বলাই যায়। সমস্যা সমাধানে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারানিকে দলে ভিড়িয়েছে কলকাতা। এখন পেস বোলিংয়ে কলকাতার ভরসা মুজারাবানি, উমরান মালিক, কার্তিক তিয়াগি, বৈভব অরোরারা। তবে মোস্তাফিজ-হর্ষিতদের অভাব কি আর এদের দিয়ে পূরণ হয়!

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া কলকাতা এখন বিপদে
৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
"গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে" বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী শিশির মনির। 

আপনি কি তাঁর সাথে একমত?

"গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে" বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী শিশির মনির। আপনি কি তাঁর সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন