এল টি কে নিউজ
সর্বশেষ
ইরানে যুদ্ধের ছায়া: সীমিত অভিযানের আড়ালে বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইরানে যুদ্ধের ছায়া: সীমিত অভিযানের আড়ালে বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মোটেই অমূলক নয়। যদিও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান শুরু করেনি, তবু সামরিক প্রস্তুতি, কৌশলগত মোতায়েন এবং সীমিত অপারেশনের নানা ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, “সীমিত অভিযান” নামের যে কোনো পদক্ষেপ খুব সহজেই বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ছোট পরিসরের সামরিক হস্তক্ষেপও দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, আর সেই বাস্তবতা আজ আবারও সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।ইরানকে অনেকেই কেবল একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দেখলেও বাস্তবে দেশটি সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত জটিল প্রতিপক্ষ। তাদের রয়েছে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, ড্রোন প্রযুক্তি, ভূগর্ভস্থ সামরিক অবকাঠামো এবং বিস্তৃত আঞ্চলিক প্রভাববলয়। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান মানে কোনো সহজ বা স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধ নয়; বরং তা দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত সংঘাতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ ধরনের যুদ্ধের পরিণতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা মানবিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক শক্তির নতুন সংঘাতে রূপ নেয়।এই সংকটের আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো এর বৈশ্বিক প্রভাব। ইরান অঞ্চলগতভাবে এমন এক ভূ-কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, যেখানে সামরিক সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালীসহ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাই মারাত্মক চাপে পড়ে যেতে পারে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধাক্কা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সংকট—সবই তখন বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে উঠবে। অর্থাৎ, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্ব থাকবে না; এর অভিঘাত পৌঁছে যাবে ইউরোপ, এশিয়া, এমনকি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ মানুষের জীবনেও।যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই পথ মোটেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, “দ্রুত সামরিক সাফল্য” প্রায়ই দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও সামরিক জটিলতায় পরিণত হয়। মার্কিন জনমত, রাজনৈতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছু বিবেচনায় নিলে নতুন আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান কেবল সামরিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি হবে এমন এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার মূল্য দিতে হতে পারে বহু বছর ধরে। সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে আছে ভুল হিসাবের মধ্যে। একটি ভুল হামলা, একটি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া, কিংবা একটি ভুল বার্তাই পুরো অঞ্চলকে সর্বাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সংযম, কূটনীতি এবং বাস্তববাদী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ, তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং শেষ করা তত কঠিন। ইরানে স্থল অভিযান যদি সত্যিই শুরু হয়, তবে তা শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ হবে না; বরং তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর এক ভয়াবহ আঘাত হয়ে দেখা দিতে পারে। এখনো সময় আছে—সংঘাতের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই কূটনীতিকে শেষ সুযোগ দেওয়ার।
৪ ঘন্টা আগে

ইরানে যুদ্ধের ছায়া: সীমিত অভিযানের আড়ালে বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইরানে যুদ্ধের ছায়া: সীমিত অভিযানের আড়ালে বড় সংঘাতের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে ৩ হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে ৩ হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে ট্রাকচাপায় হ'ত্যা

জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে ট্রাকচাপায় হ'ত্যা

৭ বার কমার পর আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

৭ বার কমার পর আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী আর নেই

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী আর নেই

আগ্রাসনের এক মাস: ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ইরানের বার্তা—“আমরা ভাঙবো না”

আগ্রাসনের এক মাস: ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ইরানের বার্তা—“আমরা ভাঙবো না”

এক মাসের আগ্রাসন: ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ইরানের বার্তা—“আমরা ভাঙবো না”

এক মাসের আগ্রাসন: ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ইরানের বার্তা—“আমরা ভাঙবো না”

মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস!

মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস!

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর চেহারায় কেন আসে মিল? জানাল বিজ্ঞান

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর চেহারায় কেন আসে মিল? জানাল বিজ্ঞান

হাসি নয়, হুঁশিয়ারি: ট্রাম্পের প্রতিকৃতিতে গণতন্ত্রের বদলে ক্ষমতার ভাষা

হাসি নয়, হুঁশিয়ারি: ট্রাম্পের প্রতিকৃতিতে গণতন্ত্রের বদলে ক্ষমতার ভাষা

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া কলকাতা এখন বিপদে

কলকাতা নাইট রাইডার্স–সমর্থকদের মুখে হাসিটা কি এখনো আছে? প্রশ্নটি করতেই হচ্ছে। কারণ, আইপিএল নিলামের পর কলকাতা যে দলটা গড়েছিল, সেই দলে এখন বেশ কয়েকটি ফাটল ধরেছে।পেস বোলিং ইউনিটের ওপর দিয়ে তো ঝড়ই বয়ে গেছে। তাই আইপিএল শুরুর দুই দিন আগে কলকাতার সমর্থকদের মুখে হাসির চেয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজই বেশি দেখার কথা।কলকাতার দুঃসময়ের শুরু হয় বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া ঘিরে। নিলামে মোস্তাফিজকে চড়া দামে কিনেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় তাঁকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি।২ কোটি রুপি ভিত্তি মূল্যের এই বাঁহাতি পেসারকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে টেনেছিল কলকাতা। নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস আর দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে লড়াই করে তাঁকে একরকম ছিনিয়ে নিয়েছিল বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের দল।এরপরও কেন মোস্তাফিজকে বাদ দেয় কলকাতা, সেই গল্পটা অজানা থাকার কথা নয়। ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।মোস্তাফিজ আইপিএলে এর আগে কখনো ৩ কোটি রুপিতেও বিক্রি হননি। এবার তাঁকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কোনো দল কিনেছে, এর মানে মোস্তাফিজকে ঘিরে দলটি বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। টুর্নামেন্টের আগেই সেই পরিকল্পনা থেকে কলকাতার সরে আসতে হয়েছে।হর্ষিত রানামোস্তাফিজ তো আগেই নেই, কলকাতা এবার পাচ্ছে না তাদের মূল ভারতীয় পেসার হর্ষিত রানাকেও। হাঁটুর চোটে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করা এ পেসার আইপিএল থেকেও ছিটকে গেছেন।হর্ষিত ছিটকে যাওয়ায় লোয়ার অর্ডারে একজন ‘পাওয়ার হিটার’ও হারিয়েছে কলকাতা। এখন লোয়ার অর্ডারে ঝড় তুলতে বিদেশি কাউকে খেলাতে হতে পারে দলটির। তাই হর্ষিতের ছিটকে যাওয়া প্রভাব ফেলবে কলকাতার দলীয় সমন্বয়ে। হর্ষিতের বদলি হিসেবে ভারতীয় পেসার নবদীপ সাইনিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে দলটি।কলকাতার স্কোয়াডে দ্বিতীয় সেরা ভারতীয় পেসার আকাশদীপ। তিনিও কোমরের চোটে ছিটকে গেছেন আইপিএল থেকে। তাঁর বিকল্প হিসেবে বাঁহাতি পেসার সৌরভ দুবেকে নিয়েছে কলকাতা। সৌরভ কখনো আইপিএলে খেলেননি।চোটের সমস্যা এখানেই শেষ নয়। মোস্তাফিজের পাশাপাশি দলটি নিলাম থেকে শ্রীলঙ্কার পেসার মাতিশা পাতিরানাকেও দলে নিয়েছিল। তাঁকে কিনতে কলকাতার খরচ হয় ১৮ কোটি রুপি।ডেথ ওভারে কলকাতাকে বাঁচানোর দায়িত্বটা এই পাতিরানার ওপরই ছিল। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে চোটে পড়া এই পেসারও আইপিএলে এবারের মৌসুম থেকে ছিটকে গেছেন। তবে কলকাতা আশা করছে মৌসুমের শেষ দিকে তাঁকে পাওয়া যাবে। সে কারণে এখনো বদলি হিসেবে কারও নাম ঘোষণা করেনি দলটি।চোটে ভুগছেন পাতিরানাসব মিলিয়ে কলকাতার পেস বোলিং ধুঁকছে বলাই যায়। সমস্যা সমাধানে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারানিকে দলে ভিড়িয়েছে কলকাতা। এখন পেস বোলিংয়ে কলকাতার ভরসা মুজারাবানি, উমরান মালিক, কার্তিক তিয়াগি, বৈভব অরোরারা। তবে মোস্তাফিজ-হর্ষিতদের অভাব কি আর এদের দিয়ে পূরণ হয়!

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া কলকাতা এখন বিপদে
২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
এবারের ঈদ যাত্রা কি স্বস্তিদায়ক হচ্ছে? আপনার মতামত জানান।

এবারের ঈদ যাত্রা কি স্বস্তিদায়ক হচ্ছে? আপনার মতামত জানান।

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন