ক্রু কোথায় লুকিয়ে ছিল, কিভাবে উদ্ধার - জানালো মার্কিন গণমাধ্যম
শুধু ‘কর্নেল’ বলে পরিচয় দেওয়া ওই ক্রু বিমান বিধ্বস্তের পর কোথায় লুকিয়ে ছিলেন, কীভাবে যোগাযোগ হয়েছিল তা নিয়ে রোববার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ। ট্রাম্পপন্থী এই গণমাধ্যমটির সাংবাদিক জেনিফার গ্রিফিন জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ক্রু মূলত ‘ওয়েপনস সিস্টেম অফিসার’।ফক্স নিউজের পেন্টাগন প্রতিনিধি জেনিফার জানিয়েছেন, গত শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল হামলার শিকার হলে পাইলটের সঙ্গে ওই কর্নেলও প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়েন। এরপর তিনি একটি পাহাড়ের কয়েক হাজার ফুট উঁচুতে ওঠেন। সেখানে টানা ৪৮ ঘণ্টা আত্মগোপনে ছিলেন। আশ্রয় নেন টিকে থাকার নানা কৌশলের।নিজের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং মার্কিন বাহিনীকে উদ্ধারে সহায়তা করতে ওই সেনা সদস্য একটি ‘এনক্রিপ্টেড’ যোগাযোগ ব্যবস্থা অথবা একটি বিশেষ বিকন সংকেত সক্রিয় করেছিলেন।ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ক্রুকে উদ্ধারের জন্য কয়েক’শ মার্কিন সেনাসদস্য এক বিশাল অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এতে একাধিক বাহিনীর এলিট স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি কোনো সম্মুখযুদ্ধ হয়নি। তবে ইরানি সেনাদের উদ্ধারস্থল থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে মার্কিন বাহিনী গুলিবর্ষণ করেছিল। অভিযানের সময় কারিগরি জটিলতার কারণে অন্তত একটি বিমানকে ঘটনাস্থলে ফেলে এসেছে মার্কিন বাহিনী। ফক্স নিউজ লিখেছে- প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান সম্ভবত কাদা মাটিতে আটকে গিয়েছিল। বিমানটি যাতে শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে, সেজন্য সেটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। অভিযানে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত আরও বিমান সেখানে পাঠানো হয়েছিল। ইরানের দাবিরোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, নিখোঁজ এক পাইলটকে খোঁজার কাজে নিয়োজিত একটি মার্কিন বিমানকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটির আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ আইআরজিসিকে উদ্ধৃত করে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন ফাইটার জেটের পাইলটকে খোঁজার কাজে নিয়োজিত শত্রুপক্ষের একটি বিমানকে ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে বীর যোদ্ধারা ধ্বংস করে দিয়েছেন।