LTK News | দেশ-বিদেশের খবর ও গভীর বিশ্লেষণ

'আগুনের দেয়াল' ভেদ করে ঘরে ফেরা: Artemis II–এর শেষ অধ্যায়ের বিজ্ঞান

Artemis II আসলে কেবল আরেকটি সাধারণ মহাকাশযাত্রা নয়। এটি NASA-এর Artemis কর্মসূচির প্রথম crewed mission, যেখানে চার মহাকাশচারী Orion মহাকাশযানে চড়ে প্রায় ১০ দিনের অভিযানে চাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘুরে free-return trajectory ধরে আবার পৃথিবীতে ফিরছেন। এই মিশনে মানুষের উপস্থিতিতে প্রথমবার Orion-এর life-support system-ও গভীর মহাকাশের বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যেই মিশনটি একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে। NASA জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল ২০২৬-এ Orion পৃথিবী থেকে 248,655 মাইল দূরে পৌঁছে Apollo 13–এর মানবযাত্রার পুরোনো রেকর্ড অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ Artemis II শুধু চাঁদের পথে যাওয়া-আসার গল্প নয়; এটি মানব মহাকাশযাত্রার সীমা আরেকবার নতুন করে লিখেছে। কিন্তু পুরো অভিযানের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশটি এখন সামনে। NASA-এর সূচি অনুযায়ী শুক্রবার, ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭:৩৩ p.m. EDT-এ Orion-এর crew module ও service module আলাদা হবে, ৭:৩৭ p.m.-এ হবে crew module raise burn, ৭:৫৩ p.m.-এ শুরু হবে entry interface, আর ৮:০৭ p.m.-এ প্রশান্ত মহাসাগরে splashdown করার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ সময় হিসাব করলে এর মানে দাঁড়ায়, শনিবার, ১১ এপ্রিল ভোর ৫:৩৩-এ separation, ৫:৩৭-এ burn, ৫:৫৩-এ বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের মূল ধাপ, এবং ৬:০৭-এ splashdown। অর্থাৎ সবচেয়ে টানটান অধ্যায়টি ঘটবে ভোরের সেই ছোট্ট সময়টুকুতেই। রি-এন্ট্রি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটি সহজ ধারণা আছে—“বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণে আগুন লাগে।” বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। Orion পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকে প্রায় 25,000 mph গতিতে, অর্থাৎ প্রায় 40,000 কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে। এই ভয়ংকর গতিতে capsule-এর সামনে বায়ু প্রবলভাবে সংকুচিত হয়ে superheated gas ও plasma তৈরি করে। ফলাফল, heat shield–এর বাইরের অংশে তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে প্রায় 5,000°F-এ। গভীর মহাকাশ থেকে ফেরার সময় এই তাপ-আঘাতই Orion-এর সবচেয়ে বড় শত্রু। এই অসম্ভবকে সম্ভব করে Orion-এর 16.5 ফুট ব্যাসের heat shield, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ablative heat shield হিসেবে বর্ণনা করেছে NASA। এর বাইরের স্তরে আছে Avcoat নামের বিশেষ উপাদান, যা তাপের মুখে নিয়ন্ত্রিতভাবে ক্ষয় হয়—অর্থাৎ নিজে পুড়ে, খসে, শক্তি শোষণ করে তাপকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। সহজ ভাষায়, heat shield নিজের শরীর ক্ষয় করে মানুষের জীবন বাঁচায়। NASA-এর তথ্য বলছে, বাইরে যখন প্রায় 5,000°F তাপ, তখন ভেতরের কেবিনের তাপমাত্রা mid-70s Fahrenheit–এর কাছাকাছি রাখা সম্ভব। Artemis II–এর re-entry-কে আরও নাটকীয় করে তোলে কয়েক মিনিটের নীরবতা। NASA জানিয়েছে, প্রায় 400,000 ফুট উচ্চতায় নামার সময় capsule-এর চারপাশে plasma layer তৈরি হবে এবং তখন শুরু হবে পরিকল্পিত প্রায় ছয় মিনিটের communications blackout। এই পর্যায়ে crew প্রায় 3.9 Gs পর্যন্ত বল অনুভব করতে পারে। পৃথিবীতে তখন সবাই জানবে Orion আগুনের মধ্যে দিয়ে নেমে আসছে, কিন্তু কয়েক মিনিটের জন্য কেউ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবে না। মহাকাশ অভিযানের সবচেয়ে দমবন্ধ করা মুহূর্তগুলোর একটি ঠিক এটাই। Blackout কেটে গেলে আরেক দফা সূক্ষ্ম প্রকৌশল কাজ শুরু হবে। NASA-এর প্রকাশিত sequence অনুযায়ী, Orion forward bay cover ফেলে দেবে, তারপর প্রায় 22,000 ফুট উচ্চতায় drogue parachute খুলবে, এবং প্রায় 6,000 ফুটে তিনটি main parachute খুলে capsule-এর গতি নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনবে। এই parachute sequence-ই শেষ পর্যন্ত তাকে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদ splashdown-এর দিকে নিয়ে যাবে। আর্টেমিস-২ এর ফিরে আসা। এই কারণেই Artemis II–কে কেবল “চাঁদ ঘুরে আসার মিশন” বললে তার মাহাত্ম্য কমিয়ে দেখা হয়। এর আসল শক্তি লুকিয়ে আছে ফিরে আসার বিজ্ঞানে। বাইরে প্লাজমা, তাপ, চাপ, অন্ধ নীরবতা—ভেতরে চারজন মানুষ। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি heat shield, কয়েকটি গণনা, কয়েকটি সিস্টেম, আর মানুষের বহু দশকের বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতা। মহাকাশে যাওয়া যতটা বিস্ময়ের, ঘরে ফিরে আসা তারও বড় বিজ্ঞান। 

'আগুনের দেয়াল' ভেদ করে ঘরে ফেরা: Artemis II–এর শেষ অধ্যায়ের বিজ্ঞান