আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯বি থেকে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটে ভর করে যাত্রা শুরু করে এই মানববাহী চন্দ্রাভিযান। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় ১০ দিনের একটি মিশন, যেখানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এই মিশনে রয়েছেন নাসার কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। আর্টেমিস-২ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ; কারণ হ্যানসেন এই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের পথে যাওয়া প্রথম কানাডিয়ান নভোচারী হিসেবে ইতিহাস গড়ছেন।
নাসা জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর ওরিয়ন মহাকাশযান পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং পরবর্তী ধাপে চাঁদের পথে যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষপথ-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পরদিন নাসা নিশ্চিত করে যে মিশনটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে সফলভাবে চাঁদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, আর্টেমিস-২ শুধু সফল উড্ডয়নেই থেমে থাকেনি, বরং প্রকৃত চন্দ্রযাত্রার পথেও প্রবেশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো—এটি ভবিষ্যৎ মানব চন্দ্রাভিযানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক ধাপ। ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনধারণ ব্যবস্থা, গভীর মহাকাশে নেভিগেশন, ক্রু অপারেশন এবং দীর্ঘ দূরত্বের নিরাপদ মানবযাত্রা—সবকিছুই এই মিশনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতিতে যাচাই করা হচ্ছে। সেই অর্থে আর্টেমিস-২ ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান ও আরও দূরের মানব মহাকাশ পরিকল্পনার জন্য ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আর্টেমিস কর্মসূচিকে অনেকেই অ্যাপোলো যুগের আধুনিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের পথে যাত্রা করল। তাই আর্টেমিস-২-এর সফল উড্ডয়ন শুধু প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, এটি মহাকাশে মানবজাতির প্রত্যাবর্তনের শক্তিশালী ঘোষণা।
উড্ডয়ন: ১ এপ্রিল ২০২৬
উৎক্ষেপণ কেন্দ্র: কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা
রকেট: স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS)
মহাকাশযান: ওরিয়ন
ক্রু সদস্য: ৪ জন
মিশনের ধরন: মানববাহী চন্দ্র-ফ্লাইবাই
সম্ভাব্য মেয়াদ: প্রায় ১০ দিন
আর্টেমিস-২ দেখিয়ে দিল, চাঁদে ফেরার স্বপ্ন আর কেবল অতীতের নস্টালজিয়া নয়; এটি এখন বাস্তবের নতুন অভিযান। অর্ধশতাব্দী পর এই উড্ডয়ন প্রমাণ করেছে, মানবসভ্যতা আবারও মহাশূন্যের গভীরে পা বাড়াতে প্রস্তুত।

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯বি থেকে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটে ভর করে যাত্রা শুরু করে এই মানববাহী চন্দ্রাভিযান। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় ১০ দিনের একটি মিশন, যেখানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এই মিশনে রয়েছেন নাসার কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। আর্টেমিস-২ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ; কারণ হ্যানসেন এই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের পথে যাওয়া প্রথম কানাডিয়ান নভোচারী হিসেবে ইতিহাস গড়ছেন।
নাসা জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর ওরিয়ন মহাকাশযান পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং পরবর্তী ধাপে চাঁদের পথে যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষপথ-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পরদিন নাসা নিশ্চিত করে যে মিশনটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে সফলভাবে চাঁদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, আর্টেমিস-২ শুধু সফল উড্ডয়নেই থেমে থাকেনি, বরং প্রকৃত চন্দ্রযাত্রার পথেও প্রবেশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো—এটি ভবিষ্যৎ মানব চন্দ্রাভিযানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক ধাপ। ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনধারণ ব্যবস্থা, গভীর মহাকাশে নেভিগেশন, ক্রু অপারেশন এবং দীর্ঘ দূরত্বের নিরাপদ মানবযাত্রা—সবকিছুই এই মিশনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতিতে যাচাই করা হচ্ছে। সেই অর্থে আর্টেমিস-২ ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান ও আরও দূরের মানব মহাকাশ পরিকল্পনার জন্য ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আর্টেমিস কর্মসূচিকে অনেকেই অ্যাপোলো যুগের আধুনিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের পথে যাত্রা করল। তাই আর্টেমিস-২-এর সফল উড্ডয়ন শুধু প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, এটি মহাকাশে মানবজাতির প্রত্যাবর্তনের শক্তিশালী ঘোষণা।
উড্ডয়ন: ১ এপ্রিল ২০২৬
উৎক্ষেপণ কেন্দ্র: কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা
রকেট: স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS)
মহাকাশযান: ওরিয়ন
ক্রু সদস্য: ৪ জন
মিশনের ধরন: মানববাহী চন্দ্র-ফ্লাইবাই
সম্ভাব্য মেয়াদ: প্রায় ১০ দিন
আর্টেমিস-২ দেখিয়ে দিল, চাঁদে ফেরার স্বপ্ন আর কেবল অতীতের নস্টালজিয়া নয়; এটি এখন বাস্তবের নতুন অভিযান। অর্ধশতাব্দী পর এই উড্ডয়ন প্রমাণ করেছে, মানবসভ্যতা আবারও মহাশূন্যের গভীরে পা বাড়াতে প্রস্তুত।

আপনার মতামত লিখুন