অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের এই কঠোর সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে আজহারির একটি পুরোনো ভিডিও ফুটেজ। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী:
* যুক্তরাষ্ট্রের সভা: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ধর্মীয় সভায় আজহারি নাৎসি শাসক হিটলারের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
* ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য: তিনি ইহুদিদের 'অমানুষ' (Sub-human) হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে তারা মানবতার শত্রু। তিনি মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে তারা ইহুদিদের সাথে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক বা সামাজিক সম্পর্ক না রাখে।
অস্ট্রেলিয়া তাদের অভিবাসন আইনের 'ক্যারাক্টার টেস্ট' (Character Test) বা চরিত্রগত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর।
* সিনেটর জোনাথন ডুনিয়ামের ভূমিকা: লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম দেশটির সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান যে, ঘৃণামূলক বক্তব্য (Hate Speech) দেয় এমন কাউকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রচারণার সুযোগ দেওয়া দেশটির সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
* ভিসা বাতিল: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর সাধারণত ৫ও১ ধারার অধীনে ভিসা বাতিল করতে পারে যদি মনে করা হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জনসমাজে ঘৃণা ছড়াতে পারেন বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে পারেন।
* মাঝপথে বাতিল: আজহারি 'লিগ্যাসি অব ফেইথ' সিরিজের জন্য ব্রিসবেন ও মেলবোর্নে তার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। সিডনি এবং ক্যানবেরায় তার বড় ধরনের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল।
* আয়োজকদের প্রতিক্রিয়া: স্থানীয় আয়োজকরা এই ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। অনেক অনুসারী টিকিট কেটেছিলেন, যা এখন বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিষয়টি কেবল বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এবং অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় বেশ কিছু পোর্টালে এই খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়েছে। সেখানে আজহারিকে একজন 'চরমপন্থী মতাদর্শের প্রচারক' হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা তার আন্তর্জাতিক সফরের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালো।
বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগের নজরদারিতে রয়েছেন এবং তাকে পরবর্তী উপলব্ধ ফ্লাইটে দেশ ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ বা অফিসিয়াল কোনো মাধ্যমে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো পাল্টা বিবৃতি আসেনি।
বিষয় : মিজানুর রহমান আজহারি

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের এই কঠোর সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে আজহারির একটি পুরোনো ভিডিও ফুটেজ। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী:
* যুক্তরাষ্ট্রের সভা: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ধর্মীয় সভায় আজহারি নাৎসি শাসক হিটলারের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
* ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য: তিনি ইহুদিদের 'অমানুষ' (Sub-human) হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে তারা মানবতার শত্রু। তিনি মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে তারা ইহুদিদের সাথে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক বা সামাজিক সম্পর্ক না রাখে।
অস্ট্রেলিয়া তাদের অভিবাসন আইনের 'ক্যারাক্টার টেস্ট' (Character Test) বা চরিত্রগত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর।
* সিনেটর জোনাথন ডুনিয়ামের ভূমিকা: লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম দেশটির সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান যে, ঘৃণামূলক বক্তব্য (Hate Speech) দেয় এমন কাউকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রচারণার সুযোগ দেওয়া দেশটির সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
* ভিসা বাতিল: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর সাধারণত ৫ও১ ধারার অধীনে ভিসা বাতিল করতে পারে যদি মনে করা হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জনসমাজে ঘৃণা ছড়াতে পারেন বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে পারেন।
* মাঝপথে বাতিল: আজহারি 'লিগ্যাসি অব ফেইথ' সিরিজের জন্য ব্রিসবেন ও মেলবোর্নে তার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। সিডনি এবং ক্যানবেরায় তার বড় ধরনের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল।
* আয়োজকদের প্রতিক্রিয়া: স্থানীয় আয়োজকরা এই ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। অনেক অনুসারী টিকিট কেটেছিলেন, যা এখন বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিষয়টি কেবল বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এবং অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় বেশ কিছু পোর্টালে এই খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়েছে। সেখানে আজহারিকে একজন 'চরমপন্থী মতাদর্শের প্রচারক' হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা তার আন্তর্জাতিক সফরের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালো।
বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগের নজরদারিতে রয়েছেন এবং তাকে পরবর্তী উপলব্ধ ফ্লাইটে দেশ ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ বা অফিসিয়াল কোনো মাধ্যমে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো পাল্টা বিবৃতি আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন