LTK News | দেশ-বিদেশের খবর ও গভীর বিশ্লেষণ

চলতি মাসের ১১ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার মা–বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে ‘মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর’ অনুমতি দেন।

আদালতের রায়ের পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ কার্যকর, ১৩ বছর কোমায় থাকা হরিশ রানার মৃত্যু


বিশ্বডেস্ক
বিশ্বডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আদালতের রায়ের পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ কার্যকর, ১৩ বছর কোমায় থাকা হরিশ রানার মৃত্যু
হরিশ রানার মৃত্যুর ঘটনা যেন নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্ব বিবেককে!

প্রথমবারের মতো আদালতের অনুমতিতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বা প্যাসিভ ইউথানেশিয়া কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকার পর ৩১ বছর বয়সী হরিশ রানার মৃত্যু হয়েছে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

এর আগে চলতি মাসের ১১ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার মা–বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে ‘মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর’ অনুমতি দেন। আদালতের সেই ঐতিহাসিক রায়ের পর ১৪ মার্চ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর শুরু হয় লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া। প্রায় ১১ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। 

হরিশ রানা ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে একটি ছাত্রাবাসের চারতলা থেকে পড়ে গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত পান। এরপর থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখতে ট্রাকোস্টমি টিউব এবং কৃত্রিম খাবারের জন্য বিশেষ টিউব ব্যবহার করা হতো। দীর্ঘ সময়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর মা–বাবা আদালতের শরণাপন্ন হন। 

সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেন, যখন কোনো রোগীর সুস্থ হয়ে ফেরার বাস্তব সম্ভাবনা থাকে না, তখন অনির্দিষ্টকাল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা চিকিৎসকদের ওপর বর্তায় না। একই সঙ্গে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত আইন প্রণয়নের আহ্বানও জানান বিচারকেরা। 

আদালতের নির্দেশে হরিশকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাঁর কৃত্রিম খাবার ও লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। 

মৃত্যুর পরও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হরিশের পরিবার। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর মা–বাবা কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ দান করেছেন। 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’র আইনি বৈধতা স্বীকৃত হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। সেই হিসাবে হরিশ রানাই ভারতের প্রথম ব্যক্তি, যাঁর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিতে আইনত এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হলো। 

আপনার মতামত লিখুন

LTK News | দেশ-বিদেশের খবর ও গভীর বিশ্লেষণ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


আদালতের রায়ের পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ কার্যকর, ১৩ বছর কোমায় থাকা হরিশ রানার মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

প্রথমবারের মতো আদালতের অনুমতিতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বা প্যাসিভ ইউথানেশিয়া কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকার পর ৩১ বছর বয়সী হরিশ রানার মৃত্যু হয়েছে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

এর আগে চলতি মাসের ১১ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার মা–বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে ‘মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর’ অনুমতি দেন। আদালতের সেই ঐতিহাসিক রায়ের পর ১৪ মার্চ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর শুরু হয় লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া। প্রায় ১১ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। 

হরিশ রানা ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে একটি ছাত্রাবাসের চারতলা থেকে পড়ে গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত পান। এরপর থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখতে ট্রাকোস্টমি টিউব এবং কৃত্রিম খাবারের জন্য বিশেষ টিউব ব্যবহার করা হতো। দীর্ঘ সময়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর মা–বাবা আদালতের শরণাপন্ন হন। 

সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেন, যখন কোনো রোগীর সুস্থ হয়ে ফেরার বাস্তব সম্ভাবনা থাকে না, তখন অনির্দিষ্টকাল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা চিকিৎসকদের ওপর বর্তায় না। একই সঙ্গে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত আইন প্রণয়নের আহ্বানও জানান বিচারকেরা। 

আদালতের নির্দেশে হরিশকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাঁর কৃত্রিম খাবার ও লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। 

মৃত্যুর পরও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হরিশের পরিবার। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর মা–বাবা কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ দান করেছেন। 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’র আইনি বৈধতা স্বীকৃত হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। সেই হিসাবে হরিশ রানাই ভারতের প্রথম ব্যক্তি, যাঁর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিতে আইনত এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হলো। 


LTK News | দেশ-বিদেশের খবর ও গভীর বিশ্লেষণ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মাসুদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত এল টি কে নিউজ