ক্যানবেরা, ২৩ মার্চ: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতার সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিরল বলেন, চলমান সংকটের মাত্রা অনেকেই এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। তার মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
আইইএ প্রধান জানান, সংকটের ফলে বৈশ্বিক বাজারে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এতে শুধু তেল ও গ্যাসের বাজার নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের বড় অংশ চলাচল করে। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ভয়াবহ অস্থিরতার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট ও ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী জ্বালানি ধাক্কার সম্মিলিত অভিঘাতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইইএভুক্ত দেশগুলো জরুরি মজুদ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবে বিরলের মতে, এটি কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে; স্থায়ী সমাধানের জন্য হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌপরিবহন পুনরুদ্ধার জরুরি।
সংস্থাটি এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কয়েকটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপও সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দূরবর্তী কাজ বাড়ানো, কারপুলিং উৎসাহিত করা এবং যানবাহনের গতিসীমা কমানোর মতো ব্যবস্থা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; খাদ্য, পরিবহন, উৎপাদন ব্যয় ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
ক্যানবেরা, ২৩ মার্চ: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতার সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিরল বলেন, চলমান সংকটের মাত্রা অনেকেই এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। তার মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
আইইএ প্রধান জানান, সংকটের ফলে বৈশ্বিক বাজারে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এতে শুধু তেল ও গ্যাসের বাজার নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের বড় অংশ চলাচল করে। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ভয়াবহ অস্থিরতার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট ও ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী জ্বালানি ধাক্কার সম্মিলিত অভিঘাতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইইএভুক্ত দেশগুলো জরুরি মজুদ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবে বিরলের মতে, এটি কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে; স্থায়ী সমাধানের জন্য হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌপরিবহন পুনরুদ্ধার জরুরি।
সংস্থাটি এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কয়েকটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপও সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দূরবর্তী কাজ বাড়ানো, কারপুলিং উৎসাহিত করা এবং যানবাহনের গতিসীমা কমানোর মতো ব্যবস্থা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; খাদ্য, পরিবহন, উৎপাদন ব্যয় ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন