প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
বিটিভির ডিজিটাল সম্প্রচার শিখতে তিন দেশে যাচ্ছেন ২১ কর্মকর্তা
নিউজ ডেস্ক ||
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ডিজিটাল সম্প্রচার শিখতে ও যন্ত্রপাতি দেখতে ঠিকাদারের অর্থে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং জার্মানি যাচ্ছেন ২১ কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নামে জিও (সরকারি আদেশ) জারি করা হয়েছে। ৪ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩ কর্মকর্তার জার্মানি ও বেলজিয়ামে ‘ফ্যাক্টরি ট্রেনিং’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে জিওতে।৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বিটিভির জন্য ডিজিটাল ট্রান্সমিটারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি পছন্দ করতে (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনে) আট কর্মকর্তা যাবেন ২৫ এপ্রিল। এ বিষয়ে জারি করা হয়েছে পৃথক আরেকটি জিও। ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় তাদের এ ভ্রমণ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বিটিভি সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসিন কর্মকর্তাদের ‘ফ্যাক্টরি ট্রেনিং’ অনুষ্ঠান উদ্বোধন ও পর্যবেক্ষণ করতে ৪ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জার্মানি ও ইংল্যান্ড ভ্রমণ করবেন উল্লেখ করে পৃথক জিও জারি করা হয়। তবে যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী যাবেন না বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার প্রোগ্রাম সূচিতে এমন কোনো কর্মসূচি নেই।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিটিভির প্রকৌশলী পর্যায়ের কেউ সফরে অন্তর্ভুক্ত হননি, উপসহকারী প্রকৌশলী পর্যায় থেকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পিএসআইতে (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) যাওয়া আট কর্মকর্তার মধ্যে পাঁচজনই বিটিভির বাইরের। তারা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রেষণে সাময়িকভাবে বিটিভিতে কর্মরত। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার আশীর্বাদে তারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিটিভি থেকে যে তালিকা প্রস্তাব করা হয়েছিল, তাতে কাটছাঁট করে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারাও ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিশেষ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অনেকে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে ‘প্লেজার ট্রিপ’ হিসেবে দেখছেন এটিকে। এতে স্বার্থের সংঘাত বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের, সে প্রশ্নও সামনে আসছে।বিটিভির বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এ প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন শেখ হাসিনার সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ২০১৮ সালে গৃহীত ২৬০ কোটি টাকার প্রকল্পটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্পের তকমা পায়। বেলজিয়াম থেকে যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রেও হাছান মাহমুদের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ৩২৯ কোটিতে উন্নীত করা হয়। অভিযোগ ওঠায় ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত রাখে। পলাতক হাছান মাহমুদ এখন বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন এবং সেখানে তার বাড়ি ও ব্যবসা থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যে তদন্তে উঠে এসেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই পর্বে ২১ জনের সফরের পুরো ব্যয়ভার বহন করবে ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি প্রদানকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যদিও জিওতে বলা হয়েছে, ‘আমন্ত্রণকারী সংস্থা’ যাওয়া-আসাসহ সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করবে।পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটের প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন’ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। প্রকল্প প্রস্তাবনায় সারা দেশের বিটিভির রিলে স্টেশনগুলো ডিজিটালাইজ করা ও অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল সম্প্রচারে রূপান্তর এবং ক্রিস্টাল ক্লিয়ার পিকচার ও সাউন্ড সিস্টেম নিশ্চিতের কথা বলা হয়। এ প্রকল্পের অধীন বিভিন্ন পদে ২৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে দুই দফায় সময় ও প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েও এটি নিশ্চিত করা যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাসুদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত এল টি কে নিউজ