প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে নতুন যুগ — জুলাইয়ে বাজারে আসছে দেশের প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তির ইভি গাড়ি
নিউজ ডেস্ক ||
শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে বড় এক মাইলফলক তৈরি হতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাস থেকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসছে বাংলাদেশে তৈরি প্রথম পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি)। ‘বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ (বিএআইএল) দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসইউভি, মোটরসাইকেল, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশা বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রদর্শনীতে এসব গাড়ির পরীক্ষামূলক চালনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রদর্শনীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ইভি যানবাহনের সক্ষমতা, ডিজাইন ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের অটোমোবাইল ও ইভি শিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।এক চার্জে ৪৫০ কিমি চলবে এসইউভি
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি বৈদ্যুতিক এসইউভি একবার পূর্ণ চার্জে ৪৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ চলতে পারবে। সাধারণ চার্জিংয়ে সময় লাগবে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা এবং ফাস্ট চার্জিংয়ের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটেই চার্জ সম্পন্ন করা যাবে।অন্যদিকে বৈদ্যুতিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এক চার্জে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম হবে। এগুলো সাধারণ চার্জে ৬ ঘণ্টা এবং ফাস্ট চার্জিংয়ে ৪০ মিনিট সময় নেবে।মীরসরাইয়ে ১,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ
চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে তোলা হয়েছে এই ইভি উৎপাদন প্ল্যান্ট। কোম্পানিটি দাবি করছে, তারাই বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান যারা স্থানীয়ভাবে ইভি প্ল্যাটফর্ম ও বডি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।বিএআইএল চেয়ারম্যান এ মান্নান হোসেন খান জানান, গাড়িগুলো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও কিছু কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমদানিকৃত কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলে উৎপাদন খরচ আরও কমানো সম্ভব হবে।রপ্তানি সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবির জানান, গাড়িগুলো ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির বড় সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দেশীয় ইভি শিল্প সফলভাবে দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে এটি বাংলাদেশের জন্য তৈরি পোশাক শিল্পের পর আরেকটি বড় রপ্তানি খাত হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।কমবে জ্বালানি নির্ভরতা
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয় জ্বালানি তেল আমদানিতে। শতভাগ ব্যাটারিচালিত এই যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানি কমবে এবং পরিবেশ দূষণও হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: চার্জিং অবকাঠামো
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে এখনো পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন না থাকায় ইভি শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা, ব্যাটারি রিসাইক্লিং ব্যবস্থা এবং দক্ষ প্রযুক্তিবিদ তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে।৫ বছরের ওয়ারেন্টি ও স্মার্ট ব্যাটারি সুবিধা
কোম্পানিটি জানিয়েছে, সব গাড়ির সঙ্গে থাকবে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি ও বিশেষ বিক্রয়োত্তর সেবা। এছাড়া তাদের ‘গ্লাইডার’ মোটরসাইকেল এবং ‘অটোম্যাক্স’ থ্রি-হুইলারে থাকবে সহজে পরিবর্তনযোগ্য (রিমুভেবল) ব্যাটারি সুবিধা, যাতে গ্রাহকরা সহজে চার্জ করতে পারেন।বাংলাদেশে ইভি শিল্পের এই যাত্রা শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং কর্মসংস্থান, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ শিল্প অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাসুদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত এল টি কে নিউজ